
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে আশঙ্কা থেকে অ্যানথ্রপিকের গবেষকের পদ ছেড়েছেন জেকব কক্সন। তার দাবি, এআই ল্যাবগুলো এমন প্রযুক্তি তৈরির দিকে এগোচ্ছে, যা কয়েক বছরের মধ্যেই মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অ্যানথ্রপিক ছাড়ার কথা জানান কক্সন। এর আগে তিনি ওপেনএআইয়েও কাজ করেছেন। তার অভিযোগ, সুপারইন্টেলিজেন্স তৈরির প্রতিযোগিতায় কোম্পানিগুলো মানুষের জীবন নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
কক্সন বলেন, গত তিন বছর ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকে প্রিট্রেনিং নিয়ে গবেষণা করলেও কোনো প্রতিষ্ঠানকেই তিনি যথেষ্ট দায়িত্বশীল মনে করেননি। তার মতে, কোম্পানিগুলো সরাসরি নিজে নিজে উন্নত হতে সক্ষম সুপারইন্টেলিজেন্ট এআই তৈরির দিকে ছুটছে।
এআইয়ের সম্ভাব্য ক্ষমতা সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বলেন, এসব সিস্টেম শিগগিরই যেকোনো কিছু হ্যাক করতে, রাতারাতি বিভিন্ন ক্ষেত্র বদলে দিতে এবং বাস্তব ক্ষমতা ও সম্পদ অর্জন করতে পারে। এমনকি কয়েক বছরের মধ্যেই সুপারইন্টেলিজেন্ট এআই মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
২৭ বছর বয়সী সাবেক এই গবেষকের দাবি, এআই নিয়ে এমন ভয় শুধু তার একার নয়। অনেক জ্যেষ্ঠ গবেষক ও নির্বাহী ব্যক্তিগত আলোচনায় একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তবে প্রকাশ্যে তারা বিষয়টি তুলনামূলকভাবে পরিমিত ভাষায় তুলে ধরেন।
কক্সনের অভিযোগ, অ্যানথ্রপিক ঝুঁকির মাত্রা ভালোভাবেই বোঝে। তবু প্রতিষ্ঠানটি প্রতিযোগিতায় সবার আগে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। তাদের আশঙ্কা, অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান দায়িত্বশীল আচরণ করবে না—এই ধারণা থেকেই ঝুঁকি জেনেও তারা এআই উন্নয়নের দৌড়ে এগিয়ে যেতে চাইছে।